ক্যান্সার প্রতিরোধের কিছু সহজ উপায়

মরনব্যাধি ক্যান্সার। এই কথাটি আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি। তাই ক্যান্সারের নাম শুনলেও অনেকে আঁতকে ওঠেন। একারনে বলা হয় যদি হয় ক্যান্সার নেই কোন অ্যানসার। অর্থাৎ এই রোগের চিকিৎনা নাই এটি বুঝাতেই প্রবাদটি ব্যবহার করা হয়।

ক্যান্সার একটি পরিবারকে নিঃস্ব করে দিতে পারে । মানসিক এবং আর্থিকভাবে পরিবারটি বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে। সব ক্যান্সারের পরিনতিও ভাল নয়। তাই ক্যান্সার চিকিৎসার চেয়ে এখন এটি প্রতিরোধের  কথা নিয়েই একণ  বেশি আলোচনা হচ্ছে।

ক্যান্সার প্রতিরোধ করা খুব যে কঠিন তা নয়। তবে বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে যা পালন করা অনেক কঠিন। ক্যান্সার যাতে না হয় সে চেষ্টাই সবার করা উচিত কারণ একবার হয়ে গেলে সমস্যার অন্ত থাকেনা।

এমন কিছু কি করা যায়, যাতে ক্যানসারকে আমরা ঠেকাতে পারি? চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই রোগ অনেকখানিই ঠেকানো যায়। অনেক রকমের ক্যানসার আমাদের ভুল বা অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার কারণে হয়। জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনে এসব ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। এমন কিছু পরামর্শই ‍তুলে ধরা হলো :

তামাককে না বলুন

ধূমপানের ফলে ফুসফুসে, প্রস্রাবের থলিতে এবং কিডনিতে ক্যান্সার দেখা দেয়। মুখের  ক্যান্সার এবং প্যানক্রিয়াসের ক্যান্সারের সাথেও ধূমপান সম্পর্কিত। গুল, জর্দা, তামাক পাতাসহ সব ধরণের তামাক জাতীয় দ্রব্য বর্জন করা উচিত। এগুলো ক্যান্সার তৈরী করে।  পরোক্ষ ধূমপানও কিন্তু অন্যের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের তামাক, জর্দা ও ধূমপানকে না বলুন।

 স্বাস্থ্যসম্মত খাবার

স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ক্যান্সারের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। প্রচুর পরিমাণে শাক সবজি এবং ফলমূল খাওয়া উচিত। আঁশ জাতীয়  খাবার বেশী খাওয়া উচিত।  লাল মাংস অর্থাৎ গরু ও খাসির মাংস বেশি বেশি খেলে অন্ত্রের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। আবার ফলমূল ও শাকসবজি বেশি করে খেলে ক্যানসারের ঝুঁকি কমে। খেতে হবে প্রচুর আঁশযুক্ত খাবার। অত্যধিক তাপে তেল ও চর্বি ক্ষতিকর ট্রান্সফ্যাটে রূপান্তরিত হয়। এই ট্রান্সফ্যাট মানবদেহে কারসিনোজেনিক বা ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে। বেকারি ও ফাস্টফুডে এই ট্রান্সফ্যাট থাকে। অতিরিক্ত মদ্যপানের সঙ্গেও ঝুঁকি বাড়ে কিছু ক্যানসারের।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন 

মুটিয়ে যাওয়ার সঙ্গেও ক্যানসারের সম্পর্ক আছে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রেখে অন্তত কোলন ক্যানসার ও স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ করা যায়, এটা প্রমাণিত। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়াম ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। তাই শারীরিক পরিশ্রম বেশী করা উচিত। ব্যায়াম করলে স্তন এবং কোলন ক্যান্সার কম হয়। ব্যায়াম করলে ওজনও কমে। প্রতিদিন ৩০ মিনিট ব্যায়াম করা উচিত।

ভ্যাক্সিন

কিছু টিকা এখন নানা ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখছে। যেমন হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের টিকা নিলে যকৃতের ক্যানসারের ঝুঁকি কমে। নারীর জরায়ু ক্যানসারের সঙ্গে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এই টিকাও এখন সহজলভ্য।

ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ থেকে বিরত থাকুন

অনিরাপদ শারীরিক সম্পর্ক, মাদকাসক্তি, অনিরাপদ সুইয়ের ব্যবহার যকৃতের সংক্রমণ, এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। নিরাপদ যৌনমিলন করা উচিত। যৌনসম্পর্কের মাধ্যমে হেপাটাইটিস, এইডস ছড়ায়। দীর্ঘমেয়াদী হেপাটাইটিস থেকে লিভার সিরোসিস এবং পরবর্তীতে ক্যান্সার হয়। যাদের এইডস থাকে তাদের ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ইনজেকশনের সিরিঞ্জ ব্যবহারের ক্ষেত্রে খুব সাবধান হতে হবে। হেপাটাইটিস, এইডস সহ বহু অসুখ সিরিঞ্জের মাধ্যমে ছড়াতে পারে যেখান থেকে ক্যান্সার হতে পারে।

নিয়মিত চেক আপ করুন

আমরা সহজে ডাক্তারের কাছে যেতে চাইনা। একদম শেষ পর্যায়ে যাই। এটি ঠিক নয়। প্রতিবছর অন্তত:একবার সারা শরীর চেক করা উচিত। কারণ আগে ভাগে কোন রোগ ধরা পড়লে পরিনতি ভাল হয়। ভোগান্তি কম হয়। চিকিৎসা সহজ হয়।

সবাই সচেতন হলে ক্যান্সারের হার অনেক কমানো সম্ভব। সবার একটু সচেতনতাই অনেক ভাল থাকা সম্ভব।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


twelve − 9 =