সাত খুন মামলায় হাইকোর্টের রায় পিছিয়ে ২২ আগস্ট পুন:নির্ধারণ

নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় নিহত সাতজন

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় বিচারিক আদালতে দণ্ডিত আসামিদের সাজা হাই কোর্টে বহাল থাকবে কি না, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে  ২২ আগস্ট  পর্যন্ত।  বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের হাই কোর্ট বেঞ্চে এই রায় ঘোষনার তারিখ পিছিয়ে  ২২ আগস্ট পুন:নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোববার সেকালে আদালত বসলে দুই বিচারক প্রথমেই জানিয়ে দেন আজকে রায়টি হচ্ছেনা। পরে আসামীপক্ষের অন্যতম  আইনজীবীরা  এএসএম শাহজাহান জানান , অনেকে বড় মামলা, অনেক বড় রায় দিতে হবে । একারণে হয়তো  প্রস্তুতির জন্য আদালত একটু সময় নিতে চান।

রায় ঘোষণার নির্ধারিত দিনে রায় দেখার জন্য হাইকোর্টে এসেছিলেন নিজ নজরুল ইসলামের স্ত্রী, শ্বশুর, আইনজীবী চন্দন সেরকারের স্বজনসহ অনেকে।

পরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে খুনিদের সাজা যেন বহাল থাকে সেই আকুৃতি জানান নিহতদের পরিববারের সদস্যরা।

আলোচিত এই মামলায় বিচারিক আদালতে  মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের সাজা কার্যকর এবং আসামিদের আপিল শুনানি শেষে গত ২৬ জুলাইরায়ের জন্য এই দিন রেখেছিলেন হাইকোর্ট।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বিচারিক আদালতের দণ্ড আপিলের রায়ে বহাল রাখার আরজি জানানো হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছিলেন, “ এই ঘটনা নজির বিহীন । দেশে যত অপরাধ ঘটেছে, সমস্ত অপরাধের পরিসংখ্যান যদি নেওয়া হয় তবে এই অপরাধটি অপরাধ জগতের মাইলফলক হয়ে থাকবে। কারণ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ হল- আমাদের রক্ষা করা, সেখানে তারাই হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছে বলে আদালতের রায়ে উঠে এসেছে।”

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ফতুল্লার লামাপাড়া থেকে অপহরণের তিনদিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের লাশ পাওয়া যায়।
ওই ঘটনায় নিহত নজরুলের স্ত্রী বিউটি ও চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল দুটি মামলা করেন। একসঙ্গে দুই মামলার বিচার শেষে গত ১৬ জানুয়ারি রায় দেন নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেন।

রায়ে র‌্যাব-১১ এর তৎকালীন কমান্ডার সেনাবাহিনীর বরখাস্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, বাকি নয়জনকে দেওয়া হয় বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড।  এই মামলার ৩৫ আসামির মধ্যে ২৫ জনই সশস্ত্র ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্য।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে যারা কারাগারে আছেন তারা হাই কোর্টে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। এছাড়া নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য নথিও ডেথ রেফারেন্স আকারে হাই কোর্টে আসে।

এরপর প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা আলোচিত এ মামলার শুনানির জন্য গত ১৭ মে বেঞ্চ নির্ধারণ করে দিলে ২২ মে থেকে শুনানি শুরু হয়।

বিচারিক আদালতের রায়ে যাদের মৃত্যুদন্ড হয় 

সাত খুন মামলায় মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত কয়েকজনের ছবি

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন

র‌্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ

সাবেক দুই কোম্পানি কমান্ডার মেজর (অব.) আরিফ হোসেন

লে. কমান্ডার (চাকরিচ্যুত) এম মাসুদ রানা

হাবিলদার মো. এমদাদুল হক

এ বি মো. আরিফ হোসেন

ল্যান্স নায়েক হিরা মিয়া

ল্যান্স নায়েক বেলাল হোসেন

সিপাহি আবু তৈয়ব আলী,

কনস্টেবল মো. শিহাব উদ্দিন

এসআই পুর্ণেন্দু বালা

সৈনিক আসাদুজ্জামান নুর

সৈনিক আবদুল আলিম (পলাতক)

সৈনিক মহিউদ্দিন মুনশি (পলাতক)

সৈনিক আল আমিন (পলাতক)

সৈনিক তাজুল ইসলাম (পলাতক), সার্জেন্ট

এনামুল কবির (পলাতক)

নূর হোসেনের সহযোগী আলী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান দিপু, রহম আলী,  আবুল বাশার, মোর্তুজা জামান চার্চিল, সেলিম (পলাতক), সানাউল্লাহ সানা (পলাতক), শাহজাহান (পলাতক) ও জামাল সর্দার (পলাতক)।

অন্যান্য সাজা হয় যাদের

১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে ল্যান্স করপোরাল রুহুল আমিন

এএসআই বজলুর রহমান

সৈনিক নুরুজ্জামান

কনস্টেবল বাবুল হাসান

এএসআই আবুল কালাম আজাদ

এএসআই কামাল হোসেন (পলাতক)

ও করপোরাল মোখলেছুর রহমানকে।

কনস্টেবল হাবিবুর রহমান (পলাতক), হাবিলদার নাসির উদ্দিনকে সাত বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন আদালত। মোখলেছুরকে অপহরণে যুক্ত থাকার দায়ে ১০ বছর ছাড়াও আলামত অপসারণে যুক্ত থাকার দায়ে আরও সাত বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।

রায় ঘোষণার সময় মামলার ৩৫ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা ২৩ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৭ জন র‍্যাবের সদস্য। মামলার শুরু থেকেই র‍্যাবের সাবেক ৮ সদস্যসহ ১২ আসামি পলাতক।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


seventeen − one =