রাখাইনে পুলিশ ফাঁড়িতে আবার হামলা; নিহত ৭১

মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলায় নিহত ৭১

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ৩০টি পুলিশ চেকপোস্ট ও একটি সেনাঘাঁটিতে ‘জঙ্গিদের’ সম্মিলিত হামলায় কমপক্ষে ৭১ জন নিহত হয়েছে।  বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত একটা থেকে আজ শুক্রবার ভোর পর্যন্ত কয়েকটি স্থানে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এখনো সেখানে লড়াই  লড়াই  চলছে বলে খবর  দিচ্ছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, এই হামলায় ৫৯ জন ‘রোহিঙ্গা মুসলিম বিদ্রোহী’ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ জন সদস্য নিহত হয়েছে বলে দেশটির সেনাবাহিনী ও সরকার নিশ্চিত করেছে।

দ্য আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (এআরএসএ) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে এবং আরও হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে। এই সংগঠনটি আগে হারাকাহ আল-ইয়াকিন বা ‘ফেইথ মুভমেন্ট’ নামে পরিচিত ছিল।
গ্রুপটির নেতা আতা উল্লাহ বলেছেন, শত শত তরুণ রোহিঙ্গা তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। মানবাধিকার রক্ষায় সেনা বাহিনীর বিরুদ্ধে ন্যায্য প্রতিরোধ তারা চালিয়ে যাবে বলে বলছে গ্রুপটি।

এআরএসএ এর নামে করা একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে এক পোস্টে হামলার দায় স্বীকার করে বলা হয়, “বার্মিজ নির্যাতনকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে ২৫টির বেশি জায়গায় আমরা প্রতিরোধ কার্যক্রম চালিয়েছি। শিগগির আরও আসছে।”

বৃহস্পতিবারের হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান রাখাইনের পরিস্থিতি নিয়ে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির কাছে হস্তান্তর করেন।

পরে ইয়াংগুনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নাগরিকত্ব না পাওয়ায় এবং নিদারুণ বৈষম্যের কারণ মুসলমান রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছে। তাদের ওপর বলপ্রয়োগের পথ ছেড়ে মিয়ানমার সরকারকে যৌক্তিক সমাধানের পথে আসতে হবে।

এই হামলার মাধ্যমে রাজ্যটিতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো। গত বছরের অক্টোবরে ওই সংগঠনের একই ধরনের একটি হামলায় নয় পুলিশ নিহত হওয়ার পর রাজ্যটিতে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর সহিংস অভিযান চালায় দেশটির সেনাবাহিনী।

সতর্ক অবস্থানে আরাকান নিরাপত্তা বাহিনী

ওই সেনা অভিযানে বেসামরিক লোককে হত্যা, ধর্ষণ ও বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেনাবাহিনীর ওই সহিংস অভিযানের কারণে ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা বাড়িঘর ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যায়। জাতিসংঘের অভিযোগ, দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে।

শুক্রবারের এই হামলার ঘটনায় বোঝা যাচ্ছে, ওই নির্যাতনের জের ধরে রাখাইনে বিদ্রোহ জোরদার হচ্ছে। রাজ্যের দুর্গম পার্বত্য এলাকায় চলতি মাসে নিরাপত্তা বাহিনী নতুন ‘নির্মূল অভিযান’ শুরু করলে পরিস্থিত আরও খারাপ হয়ে পড়ে।

দেশটির ক্ষমতাসীন দলের প্রধান অং সান সু চির কার্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি নিউজ টিম জানিয়েছে, শুক্রবারের হামলায় একজন সেনা সদস্য, একজন অভিবাসন কর্মকর্তা, পুলিশের ১০ জন সদস্য ও ৫৯ জন বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। সেনাবাহিনীর দুটি সূত্র রয়টার্সকে বলে, এই হামলায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

অং সান সু চির কার্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি নিউজ টিম এক বিবৃতিতে বলেছে, বিদ্রোহীরা মাংদো অঞ্চলের একটি থানায় গতকাল দিবাগত রাত একটার দিকে হাতে তৈরি বোমা দিয়ে হামলা চালানো হয়। এ ছাড়া কয়েকটি পুলিশ ফাঁড়িতে সমন্বিত হামলা চালানো হয়েছে।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রায় ১৫০ জন রোহিঙ্গা বুথিডং শহরের তাউং বাজার গ্রামের সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মংডু থেকে ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে কায়াউক পাণ্ডুর রাখাইন গ্রামে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালায় রোহিঙ্গারা।

 

 

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


4 × 1 =